সারা বিশ্বে শিল্পায়নে মূলধনের জোগান আসে পুঁজিবাজার থেকে। যদিও বাংলাদেশে শিল্পায়নের মূলধন জোগানের প্রধান উৎস ব্যাংক খাত। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের অবদান যৎসামান্য। এর মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘ সময় ধরে পুঁজিবাজার থেকে কোনো অর্থায়ন আসছে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেশের পুঁজিবাজারে কোনো আইপিও আসেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতিতে যে অরাজকতা চলেছে তার কারণে পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। ফলে আইপিওতে আসার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির আইপিও নিয়ে আসার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুসারে, আইপিওর মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে ৫২টি কোম্পানি ৭ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এক্ষেত্রে প্রতি বছর গড়ে আইপিওর মাধ্যমে ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার অর্থায়ন হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে চারটি কোম্পানি ৩২৭ কোটি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৫টি কোম্পানি ১ হাজার ২৮৬ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫টি কোম্পানি ৪ হাজার ৮৪৮ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে নয়টি কোম্পানি ৬৭৮ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নয়টি কোম্পানি ৮৪১ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করেছে। তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে কোনো অর্থায়ন হয়নি। মূলত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) থেকেই পুঁজিবাজারে নতুন কোনো আইপিও আসছে না। ফলে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে কোনো অর্থায়ন হচ্ছে না।
দেশের পুঁজিবাজারে এত দীর্ঘ সময় ধরে আইপিও না আসার নজির আর কখনো দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ২০২২ সালের শুরুতেই দেশের পুঁজিবাজারে মন্দা ভাব দেখা যায়, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। পুঁজিবাজারের এ নিম্নমুখিতার কারণে উদ্যোক্তারা কোম্পানির আইপিওতে আসতে আগ্রহ দেখান না। নিম্নমুখী বাজারে শেয়ারের প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে তাদের সংশয় থাকে। তাছাড়া বিগত সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে যেভাবে অনিয়ম ও কারসাজির ঘটনা ঘটেছে তাতে অনেক ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নিলে সবার মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে দেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। যদিও সে প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের অবস্থা পরিবর্তনে যে ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল সেটিও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তার ওপর দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো বিনিয়োগে যাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। এ অবস্থায় নতুন করে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আইপিওতে আসছেন না কেউ।
পুঁজিবাজারে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরে কোনো আইপিও আসেনি এটা ঠিক। কিন্তু একে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। বিগত ১৫ বছরের অরাজকতার কারণে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছিল। এখনো সে অরাজকতা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। পুঁজিবাজারে কারসাজির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। আমরা সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতিতে আইপিও প্রক্রিয়াসহ পুঁজিবাজারে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কী সমস্যা রয়েছে সেটি সমাধানে তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আইপিও যারা আনবে সেই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নিজেরাই বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছে। আমরা সেগুলো দূর করতে কাজ করছি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের প্রতি মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা চলে গেছে। আইপিওর জন্য নিরীক্ষা প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিরীক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কাজ করছি।’
বর্তমান সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক উল্লেখ করে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘সংস্কারের জন্য সময় প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করে কোনো কিছু করতে গেলে ভুল হতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পুঁজিবাজারে আইপিও আনতে হবে এ বিষয়ে আমরা সচেতন। শুধু আইপিও কেন ডেরিভেটিভস, অবকাঠামো প্রকল্প সিকিউরিটাইজেশনের মতো নতুন পণ্য আনার বিষয়ে কাজ চলছে। আমাদের এখানে দক্ষ ও যোগ্য জনবলের ঘাটতি রয়েছে। আবার বেতন কাঠামোর কারণে বিদেশ থেকে দক্ষ ও যোগ্য জনবল আনার ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে শুধু আমাদের দিক থেকে চেষ্টা থাকলেই হবে না, সবারই দায়িত্ব রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় আমরা তাদের আইপিওতে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তখন কোম্পানিগুলো জানিয়েছে তাদের অর্থের প্রয়োজন নেই। কিন্তু তারা বছরের পর বছর ধরে এ দেশে ব্যবসা করছে। তাই তাদের অর্থের প্রয়োজন না থাকলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত।’
পুঁজিবাজারে আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ বেশ পুরেনো। গত দেড় দশকে ১৪৯টি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করেছে, যার অধিকাংশই এসেছে খায়রুল কমিশনের মেয়াদে। এর মধ্যে অনেক কোম্পানিই এখন আর্থিকভাবে দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বেশকিছু কোম্পানির। আইপিওর অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যয়ের ঘটনাও দেখা গেছে। এছাড়া আইপিওতে আসার পর কৃত্রিমভাবে কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়িয়ে এর মাধ্যমেও পুঁজিবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। আইপিওর আগে প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায়ও বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টাকা ছাড়াই উপহার হিসেবে প্লেসমেন্ট শেয়ার দেয়া হয়েছে। এসব শেয়ার কোম্পানির তালিকাভুক্তির পর বাড়তি দামে বিক্রি করেছেন তারা। সব মিলিয়ে পুরো আইপিও প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম ও কারসাজির বড় ধরনের একটি চক্র গড়ে উঠেছে দেশের পুঁজিবাজারে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর পুঁজিবাজারে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হলে ভালো উদ্যোক্তারা আইপিওতে আসতে আগ্রহী হবেন না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুরো বিশ্বজুড়েই শিল্প খাতে অর্থায়নের মূল উৎস পুঁজিবাজার। কিন্তু আমাদের দেশে পুরো উল্টো চিত্র। এখানে সবাই ব্যাংক থেকে অর্থ নেয়। পুঁজিবাজারে নতুন আইপিও না আসার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান যে কাঠামো রয়েছে সেটি ত্রুটিপূর্ণ। এতে উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির শেয়ারের প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে পুঁজিবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। কোম্পানির ন্যূনতম কত শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়তে হবে সেটি নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন। এটি এমনভাবে করতে হবে যাতে করে যারা শেয়ার পাচ্ছেন তারা উপকৃত হন, অন্যদিকে যারা শেয়ার ছাড়ছেন তারাও যেন ন্যায্য দাম পান। পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অর্থ নেই। তাদের কাছে অর্থ না থাকলে পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ হবে কীভাবে? এবারের বাজেটে এ-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা থাকবে বলে সবাই প্রত্যাশা করেছিল, যদিও সেটি হয়নি। আমাদের মতো দেশ যারা কিনা সামনে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে তাদের পুঁজিবাজার এত দুর্বল হলে কীভাবে হয়? প্রতিদিন যেসব শেয়ারের দাম বাড়ে সেগুলোর অধিকাংশই দুর্বল কোম্পানি। এ ধরনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের প্রতি মানুষ আগ্রহী হবে না।’
দেশের পুঁজিবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য গত বছর আগস্টে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই মধ্যে টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে আইপিও-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি খসড়া সুপারিশমালা জমা দেয়া হয়েছে। এতে বহুজাতিক ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখা এবং ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে তালিকাভুক্তিসহ আরো বেশকিছু সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি ও নামিদামি বহুজাতিক কিছু কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে চায় বিএসইসি। তবে সংস্কার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখনো পাবলিক ইস্যু বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে আগের কমিশনের সময়ে যেসব আইপিও আবেদন জমা দেয়া হয়েছিল সেগুলোর কোনোটিকেই বিবেচনায় রাখতে চাইছে না বিএসইসি। এ ধরনের বেশকিছু কোম্পানির আইপিও আবেদন বিভিন্ন ভুল-ত্রুটির কারণে নাকচ করে দিয়েছে কমিশন।
মার্চেন্ট ব্যাংকাররা বলছেন, অতীতে আইপিও নিয়ে যেসব অনিয়ম ও কারসাজি হয়েছে সেগুলোর কারণে বর্তমানে বিএসইসির পক্ষ থেকে আগে যেসব আইপিও আবেদন জমা দেয়া হয়েছে সেগুলোকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের বিদ্যমান বাস্তবতায় নতুন করে কেউ আইপিওতে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সামনের বছর জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী নন কেউ। এ অবস্থায় আইপিওর জন্য ভালো ও বড় কোম্পানি বর্তমানে সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে গত এক বছরে নতুন কোনো আইপিও আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া ব্যাংক ঋণের সহজলভ্যতার কারণেও অনেক উদ্যোক্তা পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে চান না। গত এক বছরে পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে এক টাকা সংগ্রহ না হলেও এ সময়ে ব্যাংক থেকে শিল্প খাতে ৮৩ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের মার্চ শেষে শিল্প খাতে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে শিল্প খাতে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৭ লাখ ২৬ হাজার ১১৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মেয়াদি ঋণ ও চলতি মূলধন বাবদ শিল্প খাতে এ ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরে কোনো আইপিও না আসার কারণ হচ্ছে পুঁজিবাজার পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে অনেক উদ্যোক্তা দ্বিধান্বিত ছিলেন তাদের শেয়ারের যথাযথ ভ্যালুয়েশন পাওয়া যাবে কিনা? তাছাড়া এ সময়ে আইপিও প্রক্রিয়ার কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে আমাদের নিজেদের প্রস্তুত করার বিষয়ও ছিল। চলতি অর্থবছরে আমরা ১০টি ভালো কোম্পানি ও ১০টি বড় বন্ড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। ওষুধ খাতসহ স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আমরা ছোটখাটো ভুলভ্রান্তিগুলো নমনীয় দৃষ্টিতে দেখব। বড় ধরনের কোনো সমস্যা না থাকলে আমরা দুই মাসের মধ্যে আইপিও অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চাই। পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কেন পুঁজিবাজারে আইপিও নিয়ে আসতে পারছে না সে বিষয়েও আমরা তাদের সঙ্গে বসব।’